বুক রিভিউ: পদ্মা নদীর মাঝি। Book Review Podda Nodir Majhi

"পদ্মা নদীর মাঝি" - এক কালজয়ী অধ্যায়ের পুনরালোচনা

মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত "পদ্মা নদীর মাঝি" বাংলা সাহিত্যের এক অবিস্মরণীয় সৃষ্টি, যা যুগ যুগ ধরে পাঠক হৃদয়ে এক গভীর ছাপ রেখে চলেছে। ১৯৩৬ সালে প্রকাশিত এই উপন্যাসটি পদ্মা নদীর তীরবর্তী জেলেপাড়ার জীবন, তাদের সুখ-দুঃখ, হাসি-কান্না, প্রেম-বিরহ এবং প্রকৃতির সাথে তাদের অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ককে এক অনবদ্য শৈল্পিক রূপ দিয়েছে। প্রায় এক শতাব্দী পেরিয়েও এই উপন্যাসের আবেদন এতটুকুও ম্লান হয়নি, বরং সময়ের সাথে সাথে এর প্রাসঙ্গিকতা যেন আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। আজকের এই আলোচনায় আমরা "পদ্মা নদীর মাঝি" উপন্যাসের বিভিন্ন দিক, এর চরিত্রায়ণ, ভাষা শৈলী, সামাজিক প্রেক্ষিত এবং সার্বিক প্রভাব নিয়ে বিস্তারিত আলোকপাত করব।

বুক রিভিউ: পদ্মা নদীর মাঝি। Book Review Podda Nodir Majhi
বুক রিভিউ: পদ্মা নদীর মাঝি। Book Review Podda Nodir Majhi

উপন্যাসের পটভূমি ও বিষয়বস্তু:

উপন্যাসটির মূল পটভূমি হলো পদ্মা নদীর তীরবর্তী কেতুপুর গ্রামের জেলেপাড়া। এই গ্রামকে কেন্দ্র করে মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় নির্মাণ করেছেন এক বাস্তবসম্মত জগৎ, যেখানে প্রকৃতির রুদ্র রূপ এবং মানুষের জীবন সংগ্রামের এক শ্বাসরুদ্ধকর চিত্র ফুটে উঠেছে। পদ্মা নদী এখানে শুধু একটি ভৌগোলিক উপাদান নয়, বরং এটি উপন্যাসের এক প্রধান চরিত্র, যা জেলেদের জীবন ও জীবিকার উৎস, তাদের আনন্দ-বেদনার সাক্ষী, এমনকি তাদের ভাগ্যের নিয়ন্তা। নদীর ভাঙাগড়ার খেলার মতোই জেলেদের জীবনেও সুখ-দুঃখের ঢেউ আছড়ে পড়ে।

উপন্যাসের মূল বিষয়বস্তু হলো দারিদ্র্য, অশিক্ষা, কুসংস্কার এবং প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের নিরন্তর সংগ্রাম। জেলেদের জীবন অত্যন্ত কঠিন, যেখানে দৈনন্দিন অস্তিত্বের জন্য তাদের প্রকৃতির প্রতিকূলতার সাথে লড়াই করতে হয়। দারিদ্র্যের নিষ্পেষণে তাদের স্বপ্নগুলো ভেঙে যায়, মানবিক সম্পর্কগুলো জটিল আকার ধারণ করে এবং নৈতিকতার মানদণ্ডগুলোও কখনো কখনো শিথিল হয়ে পড়ে। উপন্যাসটি এই শ্রেণীর মানুষের জীবনকে অত্যন্ত সংবেদনশীলতার সাথে ফুটিয়ে তুলেছে, যেখানে কোনো প্রকার বাড়তি আবেগ বা রোমান্টিকতা নেই, বরং রয়েছে এক নির্মম বাস্তবতা।

চরিত্রায়ণ:

"পদ্মা নদীর মাঝি" উপন্যাসের চরিত্রগুলি বাংলা সাহিত্যের এক একটি মাইলফলক। প্রতিটি চরিত্রই স্বতন্ত্র, বাস্তবসম্মত এবং মানব মনের গভীরে প্রবেশ করে তাদের জটিলতাকে উন্মোচন করে।

   কুবের: উপন্যাসের প্রধান চরিত্র কুবের একজন সাধারণ জেলে, যে দারিদ্র্যের সাথে প্রতিনিয়ত সংগ্রাম করে। সে সরল, কর্মঠ কিন্তু তার জীবনে হতাশা ও ক্লান্তি গভীরভাবে প্রোথিত। স্ত্রী মালা, পুত্র-কন্যা ও ভাইঝি কপিলাকে নিয়ে তার সংসার। মালার অসুস্থতা, কপিলাকে নিয়ে তার মনের টানাপোড়েন এবং হোসেন মিয়ার প্রতি তার আকর্ষণ - এ সবই কুবেরের চরিত্রকে বহু মাত্রিকতা দিয়েছে। সে সমাজের নিপীড়িত শ্রেণীর প্রতিনিধি, যার জীবন নিয়তির হাতে বন্দী।

   হোসেন মিয়া: হোসেন মিয়া চরিত্রটি রহস্যময় এবং শক্তিশালী। সে একাধারে ধূর্ত ব্যবসায়ী এবং মানবতাবাদী। সে কেতুপুর গ্রামের জেলেদের জন্য ময়নাদ্বীপ নামক এক নতুন বসতি গড়ে তোলার স্বপ্ন দেখে। হোসেন মিয়া চরিত্রটি সমাজের প্রচলিত ধারণাকে চ্যালেঞ্জ করে। সে যেমন পুঁজিবাদের প্রতিভূ, তেমনি তার মধ্যে রয়েছে এক ধরনের আদর্শবাদ, যা তাকে অন্যদের থেকে আলাদা করে তোলে। তার উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন থাকলেও, সে জেলেদের জীবনে এক নতুন আশার সঞ্চার করে।

   কপিলা: কপিলা চরিত্রটি উপন্যাসের অন্যতম প্রাণবন্ত এবং বিতর্কিত চরিত্র। সে কুবেরের শ্যালিকা এবং তার জীবনে এক নতুন ঢেউ নিয়ে আসে। কপিলা অত্যন্ত স্বাধীনচেতা, আবেগপ্রবণ এবং সাহসী। সে সমাজের বাঁধাধরা নিয়মের বাইরে গিয়ে ভালোবাসাকে প্রাধান্য দেয়। কুবেরের প্রতি তার আকর্ষণ এবং তাদের সম্পর্ক উপন্যাসের এক গুরুত্বপূর্ণ অংশ, যা চরিত্রগুলির মানসিক টানাপোড়েনকে ফুটিয়ে তোলে। কপিলা চরিত্রটি নারী স্বাধীনতার এক প্রতীক, যে তার নিজের ভাগ্য নিজেই নিয়ন্ত্রণ করতে চায়।

   মালা: কুবেরের স্ত্রী মালা একজন রুগ্ন, ভাগ্যবিড়ম্বিত নারী। সে সংসার এবং সন্তানদের প্রতি কর্তব্যপরায়ণ, কিন্তু শারীরিক অসুস্থতা তাকে প্রতিনিয়ত কষ্ট দেয়। মালার অসহায়ত্ব এবং কুবেরের প্রতি তার নির্ভরশীলতা তার চরিত্রকে আরও মানবিক করে তোলে।

   গণেশ, রসিক, আমিনুদ্দিন: এই চরিত্রগুলো কেতুপুর গ্রামের অন্যান্য জেলেদের প্রতিনিধিত্ব করে। তারা দারিদ্র্যের কষাঘাতে জর্জরিত হলেও তাদের মধ্যে রয়েছে এক ধরনের সহমর্মিতা এবং সম্প্রদায়ের প্রতি দায়বদ্ধতা।

ভাষা শৈলী ও বর্ণনাভঙ্গি:

মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় "পদ্মা নদীর মাঝি" উপন্যাসে এক নিজস্ব ভাষা শৈলী ব্যবহার করেছেন, যা অত্যন্ত শক্তিশালী এবং কাব্যিক। তার ভাষা সহজ-সরল, কিন্তু গভীর অর্থবহ। তিনি আঞ্চলিক ভাষার ব্যবহার করে চরিত্রগুলোকে আরও বাস্তবসম্মত করে তুলেছেন। বর্ণনাভঙ্গি অত্যন্ত নিপুণ এবং সংবেদনশীল। তিনি প্রকৃতির বর্ণনা, বিশেষ করে পদ্মা নদীর বর্ণনা, অত্যন্ত কাব্যময় করে তুলেছেন। নদী এখানে কেবল একটি পটভূমি নয়, বরং এক জীবন্ত সত্তা, যা চরিত্রগুলির জীবনকে প্রতিনিয়ত প্রভাবিত করে। লেখকের বর্ণনা এতটাই বিশদ যে, পাঠক যেন সহজেই সেই জেলেপাড়ার জীবনযাত্রা এবং প্রাকৃতিক পরিবেশের সাথে একাত্ম হতে পারে। তার বাক্য গঠন সংক্ষিপ্ত কিন্তু শক্তিশালী, যা উপন্যাসের গতিকে বজায় রাখে এবং পাঠকের মনোযোগ আকর্ষণ করে।

সামাজিক প্রেক্ষিত ও দর্শন:

"পদ্মা নদীর মাঝি" উপন্যাসটি বাংলা সাহিত্যের প্রগতিশীল ধারার একটি অন্যতম উদাহরণ। মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় তার এই উপন্যাসে সমাজের নিচুতলার মানুষের জীবনকে অত্যন্ত গভীর পর্যবেক্ষণ এবং বাস্তবতার সাথে তুলে ধরেছেন। উপন্যাসটি তৎকালীন সমাজের শ্রেণি বৈষম্য, দারিদ্র্য এবং অশিক্ষার কুফলকে তুলে ধরে। লেখক অত্যন্ত দক্ষতার সাথে দেখিয়েছেন কিভাবে দারিদ্র্য মানুষের নৈতিক মূল্যবোধকে ক্ষুণ্ণ করতে পারে এবং কিভাবে মানুষের আকাঙ্ক্ষাগুলি পরিস্থিতির চাপে পড়ে ভেঙে যায়।

উপন্যাসটির মধ্যে মানবতাবাদী দর্শন স্পষ্ট। লেখক চরিত্রগুলির মানবিক দুর্বলতা এবং শক্তি উভয়কেই চিত্রিত করেছেন। তিনি দেখিয়েছেন কিভাবে প্রতিকূলতার মধ্যেও মানুষ বেঁচে থাকার সংগ্রাম চালিয়ে যায় এবং কিভাবে তাদের মধ্যে প্রেম, ঘৃণা, আকাঙ্ক্ষা এবং হতাশার মতো মৌলিক মানবিক আবেগ কাজ করে। হোসেন মিয়ার ময়নাদ্বীপ গড়ে তোলার স্বপ্ন এক ধরনের ইউটোপিয়ান দর্শনকে ইঙ্গিত করে, যেখানে মানুষ তাদের নিজস্ব নিয়মে নতুন জীবন শুরু করতে পারবে। এটি সেই সময়ের রাজনৈতিক ও সামাজিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে এক নতুন সমাজের স্বপ্ন দেখায়।

উপন্যাসের প্রভাব ও প্রাসঙ্গিকতা:

"পদ্মা নদীর মাঝি" উপন্যাসটি বাংলা সাহিত্যে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। এটি তথাকথিত উচ্চবিত্ত সমাজের বাইরে গিয়ে সাধারণ মানুষের জীবনকে কেন্দ্র করে সাহিত্য রচনার পথ প্রশস্ত করেছে। উপন্যাসটি মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাহিত্যিক প্রতিভার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত এবং তাকে বাংলা সাহিত্যের অন্যতম প্রধান বাস্তববাদী লেখক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

আজও "পদ্মা নদীর মাঝি" সমানভাবে প্রাসঙ্গিক। কারণ, দারিদ্র্য, অশিক্ষা এবং প্রকৃতির সাথে মানুষের সংগ্রাম এখনও বিশ্বের অনেক অংশে বিদ্যমান। উপন্যাসটি আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে, মানবতা এবং সহমর্মিতা এখনও আমাদের সমাজের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মূল্যবোধ। এটি আমাদেরকে সমাজের প্রান্তিক মানুষের জীবন সম্পর্কে সংবেদনশীল হতে শেখায় এবং তাদের প্রতি সহানুভূতি তৈরি করে।

উপসংহার:

"পদ্মা নদীর মাঝি" একটি কালজয়ী উপন্যাস, যা শুধু একটি গল্প নয়, বরং একটি সময়ের দর্পণ, একটি সমাজের প্রতিচ্ছবি। মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় এই উপন্যাসের মাধ্যমে এক অসাধারণ মানবিক দলিল তৈরি করেছেন, যা পাঠকদের হৃদয়ে গভীর প্রভাব ফেলে। এর শক্তিশালী চরিত্রায়ণ, মর্মস্পর্শী ভাষা শৈলী এবং গভীর সামাজিক বিশ্লেষণ এটিকে বাংলা সাহিত্যের এক অমূল্য রত্ন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। যুগ যুগ ধরে এই উপন্যাস তার নিজস্ব মহিমায় উজ্জ্বল হয়ে থাকবে এবং পাঠকদের বারবার এক নতুন অভিজ্ঞতার জগতে নিয়ে যাবে। এটি কেবল একটি উপন্যাস নয়, এটি মানবজীবনের এক চিরন্তন গাথা, যা প্রকৃতি এবং মানুষের অবিচ্ছিন্ন সম্পর্ককে মহিমান্বিত করে।

"পদ্মা নদীর মাঝি" শুধুমাত্র একটি বই নয়, এটি এক জীবন্ত অভিজ্ঞতা, যা পাঠকের মনে চিরস্থায়ী ছাপ রেখে যায়।



পদ্মা নদীর মাঝি উপন্যাস: ৫০টি MCQ (উত্তর সহ)


১. পদ্মা নদীর মাঝি উপন্যাসের রচয়িতা কে?
ক) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
খ) কাজী নজরুল ইসলাম
গ) মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
ঘ) শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
উত্তর: গ) মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়

২. পদ্মা নদীর মাঝি উপন্যাসটি কত সালে প্রকাশিত হয়?
ক) ১৯২৮
খ) ১৯৩৪
গ) ১৯৩৬
ঘ) ১৯৪২
উত্তর: গ) ১৯৩৬

৩. "পদ্মা নদীর মাঝি" উপন্যাসের প্রধান পুরুষ চরিত্র কোনটি?
ক) কুবের
খ) কপিলা
গ) মালা
ঘ) হোসেন মিয়া
উত্তর: ক) কুবের

৪. "পদ্মা নদীর মাঝি" উপন্যাসের প্রধান নারী চরিত্র কোনটি?
ক) কপিলা
খ) মালা
গ) পদ্ম
ঘ) সরস্বতী
উত্তর: খ) মালা

৫. কুবেরের পেশা কী ছিল?
ক) জেলে
খ) কৃষক
গ) মাঝি
ঘ) ব্যবসায়ী
উত্তর: গ) মাঝি

৬. হোসেন মিয়া কোন চরের সর্দার ছিল?
ক) গঙ্গা চর
খ) পদ্মা চর
গ) ময়নাদ্বীপ
ঘ) জালি চরি
উত্তর: গ) ময়নাদ্বীপ

৭. কপিলা কার স্ত্রী ছিল?
ক) কুবেরের
খ) গণেশের
গ) মালার
ঘ) হোসেন মিয়ার
উত্তর: খ) গণেশের

৮. কুবেরের স্ত্রীর নাম কী?
ক) কপিলা
খ) মালা
গ) গণেশ
ঘ) লক্ষ্মী
উত্তর: খ) মালা

৯. কপিলা কুবেরের সম্পর্কে কী ছিল?
ক) বোন
খ) শ্যালিকা
গ) স্ত্রী
ঘ) বন্ধু
উত্তর: খ) শ্যালিকা

১০. উপন্যাসে বর্ণিত নদীর নাম কী?
ক) যমুনা
খ) মেঘনা
গ) পদ্মা
ঘ) ব্রহ্মপুত্র
উত্তর: গ) পদ্মা

১১. কুবেরের ছেলের নাম কী?
ক) গোপাল
খ) চণ্ডী
গ) মিসু
ঘ) নসু
উত্তর: ঘ) নসু

১২. কুবেরের মেয়ের নাম কী?
ক) চণ্ডী
খ) কপিলা
গ) মালা
ঘ) লক্ষ্মী
উত্তর: ক) চণ্ডী

১৩. হোসেন মিয়া কোন দেশের নাগরিক ছিল?
ক) ভারত
খ) বাংলাদেশ
গ) মায়ানমার
ঘ) অজানা
উত্তর: ঘ) অজানা (চর এলাকার মানুষ, তবে বাংলাদেশের বর্তমান ভৌগোলিক সীমায় পড়ে)

১৪. হোসেন মিয়ার প্রধান উদ্দেশ্য কী ছিল?
ক) মৎস্য চাষ
খ) রাজনীতি
গ) ময়নাদ্বীপে নতুন জনবসতি স্থাপন
ঘ) নৌকা তৈরি
উত্তর: গ) ময়নাদ্বীপে নতুন জনবসতি স্থাপন

১৫. কুবেরের গ্রামের নাম কী?
ক) কেতুপুর
খ) আমিনপুর
গ) গোয়ালন্দ
ঘ) শিয়ালদহ
উত্তর: ক) কেতুপুর

১৬. উপন্যাসে কোন ঋতুর বর্ণনা বিশেষভাবে ফুটে উঠেছে?
ক) গ্রীষ্মকাল
খ) বর্ষাকাল
গ) শরৎকাল
ঘ) শীতকাল
উত্তর: খ) বর্ষাকাল

১৭. কুবেরের নৌকার নাম কী ছিল?
ক) জলপরী
খ) শঙ্খচিল
গ) ময়ূরপঙ্খী
ঘ) উল্লেখ নেই
উত্তর: ঘ) উল্লেখ নেই

১৮. কপিলা কেন কুবেরের প্রতি আকৃষ্ট হয়েছিল?
ক) কুবের ধনী ছিল
খ) কুবের শক্তিশালী ছিল
গ) কুবেরের জীবনযাত্রার প্রতি সহানুভূতি
ঘ) কুবেরের মানবিক গুণাবলীর জন্য
উত্তর: গ) কুবেরের জীবনযাত্রার প্রতি সহানুভূতি (দারিদ্র‍্য ও হতাশা)

১৯. উপন্যাসের প্রধান বিষয়বস্তু কী?
ক) প্রেম ও রোমান্স
খ) গ্রামীণ জীবন ও দারিদ্র্য
গ) রাজনীতি ও ক্ষমতা
ঘ) ইতিহাস ও ঐতিহ্য
উত্তর: খ) গ্রামীণ জীবন ও দারিদ্র্য

২০. গণেশ কে ছিল?
ক) কুবেরের ভাই
খ) কুবেরের বন্ধু
গ) কুবেরের প্রতিযোগী
ঘ) কুবেরের শ্যালক
উত্তর: ক) কুবেরের ভাই

২১. উপন্যাসে ধর্মীয় কুসংস্কারের কোনো প্রভাব দেখা যায় কি?
ক) হ্যাঁ
খ) না
গ) আংশিকভাবে
ঘ) খুব কম
উত্তর: ক) হ্যাঁ

২২. উপন্যাসে কোন সম্প্রদায়ের জীবনযাত্রার বর্ণনা দেওয়া হয়েছে?
ক) ব্রাহ্মণ
খ) মাহিষ্য
গ) জেলে
ঘ) কায়স্থ
উত্তর: গ) জেলে

২৩. কুবের শেষ পর্যন্ত কোথায় চলে যায়?
ক) তার নিজ গ্রামে
খ) ময়নাদ্বীপে
গ) শহরে
ঘ) কলকাতা
উত্তর: খ) ময়নাদ্বীপে

২৪. উপন্যাসে মালার চরিত্রটি কেমন ছিল?
ক) দুর্বল ও ভীতু
খ) প্রতিবাদী ও সাহসী
গ) ধার্মিক ও পরোপকারী
ঘ) অসুস্থ ও শান্ত
উত্তর: ঘ) অসুস্থ ও শান্ত

২৫. হোসেন মিয়া ময়নাদ্বীপে কী তৈরি করতে চেয়েছিল?
ক) স্কুল
খ) হাসপাতাল
গ) নতুন গ্রাম
ঘ) বন্দর
উত্তর: গ) নতুন গ্রাম

২৬. কুবেরের জীবনে কপিলা কী প্রভাব ফেলেছিল?
ক) শান্তি এনেছিল
খ) অশান্তি সৃষ্টি করেছিল
গ) কোনো প্রভাব ফেলেনি
ঘ) তাকে ধনী করে তুলেছিল
উত্তর: খ) অশান্তি সৃষ্টি করেছিল (মানসিক দ্বন্দ্ব)

২৭. উপন্যাসে প্রকৃতির বর্ণনা কেমন ছিল?
ক) খুব সামান্য
খ) বিশদ ও জীবন্ত
গ) কেবল পটভূমি হিসেবে
ঘ) অপ্রাসঙ্গিক
উত্তর: খ) বিশদ ও জীবন্ত

২৮. কুবেরের স্ত্রী মালার কী রোগ ছিল?
ক) কুষ্ঠ
খ) যক্ষ্মা
গ) জ্বর
ঘ) কোনো নির্দিষ্ট রোগ উল্লেখ নেই
উত্তর: ক) কুষ্ঠ

২৯. উপন্যাসে বর্ণিত সময়ের প্রেক্ষাপট কী ছিল?
ক) ব্রিটিশ আমল
খ) পাকিস্তান আমল
গ) স্বাধীন ভারত
ঘ) দেশভাগ পরবর্তী
উত্তর: ক) ব্রিটিশ আমল

৩০. উপন্যাসে নৌকার গুরুত্ব কেমন?
ক) খুব সামান্য
খ) প্রতীকী গুরুত্ব ছিল
গ) জীবন ধারণের প্রধান অবলম্বন
ঘ) কেবল যাতায়াতের মাধ্যম
উত্তর: গ) জীবন ধারণের প্রধান অবলম্বন

৩১. কপিলা কুবেরকে কী বলে ডাকত?
ক) মাঝি
খ) দাদা
গ) কুবেরদা
ঘ) জ্যাঠা
উত্তর: গ) কুবেরদা

৩২. উপন্যাসে বর্ণিত পদ্মার চরিত্র কেমন ছিল?
ক) শান্ত ও স্থির
খ) ভয়ঙ্কর ও অনিশ্চিত
গ) ক্ষুদ্র ও নিরীহ
ঘ) শুধু একটি নদী
উত্তর: খ) ভয়ঙ্কর ও অনিশ্চিত

৩৩. কুবেরের ছোট ছেলের নাম কী?
ক) গোপাল
খ) চণ্ডী
গ) মিসু
ঘ) নসু
উত্তর: ঘ) নসু

৩৪. কুবেরের প্রতি হোসেন মিয়ার মনোভাব কেমন ছিল?
ক) সহানুভূতিশীল
খ) শোষণকারী
গ) নিরপেক্ষ
ঘ) শত্রুতাভাবাপন্ন
উত্তর: ক) সহানুভূতিশীল (যদিও তার পেছনে শোষণমূলক উদ্দেশ্য ছিল)

৩৫. উপন্যাসে সামাজিক বিভেদ কেমনভাবে দেখানো হয়েছে?
ক) খুব স্পষ্ট নয়
খ) শ্রেণি বিভেদ বিশেষভাবে ফুটে উঠেছে
গ) ধর্মীয় বিভেদ
ঘ) বর্ণ বিভেদ
উত্তর: খ) শ্রেণি বিভেদ বিশেষভাবে ফুটে উঠেছে

৩৬. উপন্যাসের পটভূমি কোন অঞ্চলের?
ক) পূর্ববঙ্গ
খ) পশ্চিমবঙ্গ
গ) ত্রিপুরা
ঘ) আসাম
উত্তর: ক) পূর্ববঙ্গ

৩৭. কুবেরের পরিবারের আর্থিক অবস্থা কেমন ছিল?
ক) সচ্ছল
খ) নিম্নবিত্ত
গ) মধ্যবিত্ত
ঘ) ধনী
উত্তর: খ) নিম্নবিত্ত

৩৮. উপন্যাসে গ্রামীণ মানুষের বিশ্বাস ও কুসংস্কারের কোনো উল্লেখ আছে কি?
ক) হ্যাঁ, ব্যাপক
খ) না, একদম নেই
গ) সামান্যই
ঘ) কেবল প্রথাগত
উত্তর: ক) হ্যাঁ, ব্যাপক

৩৯. হোসেন মিয়া কেন ময়নাদ্বীপে বসতি স্থাপন করতে চেয়েছিল?
ক) নিজের ক্ষমতা বিস্তারের জন্য
খ) দরিদ্র জেলেদের আশ্রয় দিতে
গ) ব্যবসা করার জন্য
ঘ) রাজনৈতিক কারণে
উত্তর: খ) দরিদ্র জেলেদের আশ্রয় দিতে (এবং এর মাধ্যমে নিজের প্রভাব বিস্তার)

৪০. কুবেরের শেষ পরিণতি কী হয়?
ক) ধনী হয়
খ) শহরে চলে যায়
গ) ময়নাদ্বীপে নতুন জীবন শুরু করে
ঘ) মারা যায়
উত্তর: গ) ময়নাদ্বীপে নতুন জীবন শুরু করে

৪১. উপন্যাসে ভাষার ব্যবহার কেমন ছিল?
ক) সাধু ভাষা
খ) চলিত ভাষা
গ) আঞ্চলিক ভাষা
ঘ) ইংরেজি মিশ্রিত ভাষা
উত্তর: গ) আঞ্চলিক ভাষা

৪২. উপন্যাসের মূল সুর কী?
ক) আশাবাদ
খ) হতাশা ও সংগ্রাম
গ) প্রেম ও বিচ্ছেদ
ঘ) বিপ্লবী চেতনা
উত্তর: খ) হতাশা ও সংগ্রাম

৪৩. মালার মৃত্যুর পর কুবেরের জীবনে কী পরিবর্তন আসে?
ক) আরও উদাসীন হয়
খ) নতুন করে সংগ্রাম শুরু করে
গ) হোসেন মিয়ার প্রতি নির্ভরশীল হয়
ঘ) সন্ন্যাস গ্রহণ করে
উত্তর: গ) হোসেন মিয়ার প্রতি নির্ভরশীল হয়

৪৪. কুবের ও কপিলার সম্পর্ককে কিভাবে ব্যাখ্যা করা যায়?
ক) অবৈধ প্রেম
খ) মানবিক টান
গ) স্রেফ শারীরিক আকর্ষণ
ঘ) বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক
উত্তর: খ) মানবিক টান (জটিল ও বহুস্তরীয়)

৪৫. পদ্মা নদী চরিত্র হিসাবে উপন্যাসে কী ভূমিকা পালন করে?
ক) কেবল একটি প্রাকৃতিক উপাদান
খ) জীবনের নিয়ন্ত্রক শক্তি
গ) প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টিকারী
ঘ) জীবিকা অর্জনের সহায়ক
উত্তর: খ) জীবনের নিয়ন্ত্রক শক্তি

৪৬. উপন্যাসে নারী চরিত্রগুলো কিভাবে চিত্রিত হয়েছে?
ক) ক্ষমতাহীন ও দুর্বল
খ) প্রতিবাদী ও স্বাবলম্বী
গ) কেবল পুরুষের সহযোগী
ঘ) ভিন্ন ভিন্ন রূপে
উত্তর: ঘ) ভিন্ন ভিন্ন রূপে

৪৭. কুবেরের পেশা তাকে কোন ধরনের অভিজ্ঞতার সম্মুখীন করে?
ক) শহরের জীবন
খ) সমুদ্রের জীবন
গ) প্রকৃতির কাছাকাছি জীবন
ঘ) বিলাসবহুল জীবন
উত্তর: গ) প্রকৃতির কাছাকাছি জীবন

৪৮. উপন্যাসের শেষে কুবেরের মনে কী ধরনের অনুভূতির জন্ম হয়?
ক) শান্তি
খ) অনিশ্চয়তা ও সংগ্রাম
গ) আনন্দ
ঘ) তৃপ্তি
উত্তর: খ) অনিশ্চয়তা ও সংগ্রাম

৪৯. মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অন্য কোন উপন্যাস এই উপন্যাসের সাথে তুলনীয়?
ক) পুতুল নাচের ইতিকথা
খ) চিহ্ন
গ) জননী
ঘ) সবগুলো
উত্তর: ক) পুতুল নাচের ইতিকথা

৫০. পদ্মা নদীর মাঝি উপন্যাসের একটি প্রধান বৈশিষ্ট্য কী?
ক) নাগরিক জীবনের প্রতিফলন
খ) গ্রামীণ জীবনের বাস্তব চিত্রায়ণ
গ) ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট
ঘ) মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ
উত্তর: খ) গ্রামীণ জীবনের বাস্তব চিত্রায়ণ



Next Post
No Comment
Add Comment
comment url